গরমের শুরুতেই শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় সামান্য অবহেলা বা ভুল খাবারের কারণে শিশু দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক উপায়ে যত্ন নিলে দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
আজকের ব্লগে আমরা জানব শিশুর ডায়রিয়া কেন হয়, এই সময়ে শিশুকে কী খাওয়াবেন এবং কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
শিশুর ডায়রিয়া হওয়ার প্রধান কারণ
- দূষিত পানি ও খাবার: গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যা থেকে ইনফেকশন হতে পারে।
- ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া: রোটা ভাইরাস বা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
- অপরিচ্ছন্নতা: নোংরা হাত মুখে দেওয়া বা অপরিষ্কার ফিডারের ব্যবহার।
- দাঁত ওঠা: অনেক সময় দাঁত ওঠার সময় বাচ্চারা হাতের কাছে যা পায় তাই মুখে দেয়, ফলে পেটের সমস্যা হয়।
বাচ্চার পাতলা পায়খানা হলে ঘরোয়া করণীয়
ডায়রিয়া শুরু হওয়া মাত্রই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখা।
১. খাবার স্যালাইন (ORS)
শিশুর প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার স্যালাইন দিতে হবে। মনে রাখবেন, স্যালাইন বানানোর নিয়ম যেন সঠিক থাকে (আধা লিটার পানিতে পুরো এক প্যাকেট)।
২. বুকের দুধ ও তরল খাবার
৬ মাসের কম বয়সী শিশুকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান। ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের ডাবের পানি, ভাতের মাড় বা চিরার পানি দেওয়া যেতে পারে।
৩. জিংক (Zinc) সিরাপ
ডায়রিয়ার সময় জিংক সিরাপ খাওয়ালে দ্রুত সেরে ওঠে এবং ভবিষ্যতে ডায়রিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে এর ডোজ সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডায়রিয়ার সময় শিশুকে কী খাওয়াবেন?
অনেকে ডায়রিয়া হলে খাবার বন্ধ করে দেন, যা একদম ভুল। শিশুকে সহজপাচ্য খাবার দিন:
- নরম খিচুড়ি (তেল কম দিয়ে)।
- কাঁচাকলা সিদ্ধ বা কাঁচাকলা দিয়ে জাউ ভাত।
- টক দই (এটি প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে)।
- পাকা কলা।
বর্জনীয়: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, বাইরের জুস, গরুর দুধ বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এই সময়ে দেবেন না।
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন? (বিপদ চিহ্ন)
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে শিশুকে হাসপাতালে নিন:
- শিশু যদি খুব দুর্বল হয়ে পড়ে বা নিস্তেজ দেখায়।
- চোখ গর্তে ঢুকে গেলে এবং জিহ্বা বা মুখ শুকিয়ে গেলে।
- অতিরিক্ত বমি হলে এবং কিছু খেতে না পারলে।
- পায়খানার সাথে রক্ত গেলে বা প্রচণ্ড জ্বর থাকলে।
- শিশুর প্রস্রাব কমে গেলে (৬ ঘণ্টার বেশি সময় প্রস্রাব না করলে)।
প্রতিরোধে করণীয়
১. খাওয়ার আগে এবং বাচ্চার ডায়াপার পরিবর্তনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
২. শিশুকে সবসময় ফুটানো নিরাপদ পানি পান করান।
৩. বাইরের খোলা খাবার বা বাসি খাবার থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।
উপসংহার
শিশুর ডায়রিয়া মূলত সঠিক যত্ন এবং সময়মতো স্যালাইন খাওয়ার মাধ্যমেই সেরে যায়। তবে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সচেতন প্যারেন্টিংই পারে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখতে।
প্যারেন্টিং ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে AmaderBaby.com-এর সাথেই থাকুন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন