শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation): কারণ, ঘরোয়া সমাধান, কী খাবার দেবেন ও কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
শিশু কয়েকদিন পায়খানা না করলে অনেক মা-বাবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে সব সময় কম পায়খানা হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য তখনই বলা হয় যখন শিশুর পায়খানা শক্ত হয়ে যায়, পায়খানা করতে কষ্ট হয় অথবা পায়খানার সময় ব্যথা অনুভব করে।
নবজাতক, ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশু এবং টডলার—সবার ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। সঠিক কারণ জানা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?
- পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
- খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার কম থাকা
- নতুন খাবার শুরু করার পর হজমে পরিবর্তন
- অতিরিক্ত প্রসেসড বা প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া
- কম শারীরিক নড়াচড়া
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ
- ২-৩ দিনের বেশি পায়খানা না হওয়া
- পায়খানা খুব শক্ত হওয়া
- পায়খানার সময় কান্নাকাটি করা
- পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি
- খাবারে অনীহা
- পায়খানার সময় রক্তের দাগ দেখা যাওয়া
শিশুকে কী কী খাবার দিতে পারেন?
৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য কিছু খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- পাকা পেঁপে
- নাশপাতি
- আপেলের পিউরি
- আলুবোখারা (Prune)
- ওটস
- সবজি খিচুড়ি
- পর্যাপ্ত পানি
কোন খাবারগুলো কম খাওয়ানো ভালো?
- চিপস
- চকলেট
- অতিরিক্ত বিস্কুট
- ফাস্ট ফুড
- অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার
এসব খাবারে আঁশ কম থাকে এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে।
ঘরোয়া কিছু কার্যকর উপায়
- শিশুকে বেশি পানি পান করান
- বয়স অনুযায়ী ফল ও সবজি দিন
- হালকা ব্যায়াম বা খেলাধুলার সুযোগ দিন
- নিয়মিত খাবারের সময় বজায় রাখুন
- টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- এক সপ্তাহের বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য
- পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া
- প্রচণ্ড পেট ব্যথা
- বারবার বমি হওয়া
- খুব বেশি পেট ফেঁপে যাওয়া
- শিশুর ওজন কমতে থাকা
মা-বাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে নিজের ইচ্ছামতো ল্যাক্সেটিভ বা ওষুধ খাওয়াবেন না। অনেক সময় সাধারণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুদের একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। লক্ষণ গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন